জাতীয় মহিলা সংস্থা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৩ August ২০১৮

চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম এডভোকেট

 

অধ্যাপক মমতাজ বেগম, এ্যাডভোকেট

চেয়ারম্যান

 

অধ্যাপক মমতাজ বেগম এডভোকেট গত ১২ই মার্চ, ২০০৯খ্রি: তারিখে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুব কাছে থেকে রাজনীতি করেছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে চেয়ারম্যান (অবৈতনিক) এর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নিম্নে তাঁর জীবন বৃত্তান্ত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

 

০১.

নামঃ

মমতাজ বেগম

০২.

পিতার নামঃ

আব্দুল গণি ভূঁঞা

০৩.

মাতার নামঃ

জাহানারা খানম

০৪

স্বামীর নামঃ

সৈয়দ রেজাউর রহমান এডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশঅধ্যক্ষ, ধানমন্ডি ল’কলেজসদস্য ও চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ কমিটি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা।

০৫

স্থায়ী ঠিকানাঃ

৪২ নর্থ রোড ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫।

০৬

বর্তমান ঠিকানাঃ

৪২ নর্থ রোড ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫।

০৭

জন্ম তারিখঃ

১৩ এপ্রিল ১৯৪৬ ইং

০৮

জাতীয়তাঃ

বাংলাদেশী

০৯

ধর্মঃ

ইসলাম

১০.

সন্তানঃ

২ ছেলে ১ মেয়ে

১১.

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

এমএ দর্শন ও এলএলবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.

পেশাঃ

অধ্যাপনা- উপাধ্যক্ষ(অব.), টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা ওবর্তমানে আইনপেশায় নিয়োজিত।

১৩.

বিশেষ যোগ্যতাঃ

মুক্তিযোদ্ধা, তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ), স্বাধীন বাংলাদেশে গণ পরিষদের সদস্য (এমসিএ) এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য (এমপি)।

১৪.

রাজনীতি ও সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডঃ

 

  • ৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ।

  • ১৯৫৮ সামরিক শাসন বিরোধী এবং ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিল আন্দোলনে অংশগ্রহণ।

  • স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ

  • কুমিল্লা মহিলা কলেজ ছাত্রী সংসদ (১৯৬৫-৬৬) সহ-সভাপতি।

  • ৬-দফা ও ১১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ।

  • ’৬৯এর গণ অভ্যুত্থানসহ মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সমস্ত আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

  • তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) ১৯৭১।

  • বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর সৈয়দ সাজেদা চৌধুরীর বাড়ি মরিচা হাউজে মহিলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক পরিচর্যার ট্রেনিং গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং প্রদান করেন।

  • ২৬ মার্চের পরে কসবায় নিজ বাড়িতে তাঁর ভাই, বাবা ও ছাত্রলীগের সদস্যদের নিয়ে সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও ছুটিতে আসা সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে আসা সিগন্যাল কোরের মেজর বাহারকে একটি বাহিনী গঠন করতে সহযোগিতা করেন। তাঁর কসবাস্থ বাড়ি হয়েই জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানি আগরতলা পৌছেন।

  • ১০এপ্রিল, ১৯৭১: প্রবাসী মুজিবনগর সরকার গঠনের সময় ভারতের আগরতলা সার্কিট হাউজে জাতীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে পূর্বাঞ্চলীয় বিএলএফ (মুজিব বাহিনী)-এ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিএলএফ পূর্বাঞ্চলীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

  • কর্নেল এম.এ. রব, চীফ অব ষ্টাফের সহযোগিতায় শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে আগরতলায় বিএসএফের হেডকোর্য়াটারে হালকা অস্ত্র ব্যবহার ও যুদ্ধ পরিচালনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিএলএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংগে যোগাযোগ রক্ষা ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি আদানপ্রদান করার দায়িত্ব পালন করেন। আগরতলার বিশালগড়ে বিএলএফের ভাড়া বাড়ীতে শেখ ফজলুল হক মনি ও মমতাজ বেগম তাঁর বাবা-মা’সহ থাকতেন। গুরুত্বপূর্ন ও গোপনীয় সভা ও যোগাযোগ সব এ বাড়ি হতেই হত। জেনারেল এমএজি ওসমানী, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর খালেদ মোশারফ ও কর্ণেল(অব) শওকত আলী প্রমুখ সেনা কর্মকর্তারা ঐ বাড়িতেই যোগাযোগ করতেন। বাংলাদেশের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় খবরাখবর এখানেই পাঠানো হত। বিএলএফের প্রয়োজনীয় সব অর্থ মমতাজ বেগমে কাছেই রক্ষিত থাকত।

  • দেশের অভ্যন্তর থেকে নির্যাতিত মহিলাদের সহযোগিতার জন্য এখানে খবর পাঠানো হতো। প্রয়াত সাংবাদিক অনিল ভট্টাচার্যের স্ত্রী শ্রীমতি গৌরি ভট্টাচার্যের সহযোগিতায় তাদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নারী পূর্নবাসন রোর্ড প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগ পর্যন্ত এ কাজ চলতে থাকে।

  • ‘সারদা সেবাসংঘে’র সহযোগী সংগঠন হিসেবে ‘মহিলা সংঘ’ নামে একটি সেবা সংগঠনের মাধ্যমে শরণার্থী ক্যাম্পে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও উদ্বুদ্ধকরণের কাজে অংশগ্রহণ করেন। মহিলা সংঘের সভাপতি ডা. নুরুন্নাহার জহুর, সম্পাদক বেগম ফরিদা আখতার এবং কোষাধ্যক্ষ মমতাজ বেগম কাজ করেন।

  • মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তৎকালীন ক্যাপ্টেন গাফফার ও মেজর খালেদ মোশাররফের কর্মকান্ডে সক্রিয় সহযোগিতা করেন। কসবা এলাকায় শরণার্থীদের মধ্যে যারা ক্যাম্পে থাকেননি তাদের রেশনের ব্যবস্থা করেন এবং বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে উদ্বুদ্ধকরণে অংশ নেন।

  • ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্য(এমসিএ) হিসেবে মমতাজ বেগম বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় সহযোগিতা ও স্বাক্ষর করেন।

  • ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গুবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সদিচ্ছা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত মহিলাদের পূনর্বাসনের জন্য বিচারপতি কে এম সোবাহানের নেতৃত্বে ‘নারী পূনর্বাসন বোর্ড’ গঠিত হলে মমতাজ বেগম ঐ বোর্ডের সদস্য পরিচালক হন এবং তখনই বাংলাদেশ মহিলা সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের পূর্নবাসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

  • কসবা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও নারী পূর্নবাসন বোর্ড, কসবা’র প্রতিষ্ঠাতা।

  • ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে সাংসদ (এমপি) হন।

  • ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।

  • ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ মহিলা ফ্রন্ট এর সদস্য নির্বাচিত হন।

  • ১৯৭৮সালে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন।

  • প্রাক্তন সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জাতীয় আইনজীবী সমিতি;

  • প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সমিতি;

  • প্রাক্তন সহ-সভাপতি বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) এসোসিয়েশন;

  • ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সদস্য, লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সহ-সভানেত্রী হিসেবে নারী ও সমাজের অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রামে নিয়োজিত।

  • ১৯৯৬ সাল থেকে মহিলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহসভানেত্রী নির্বাচিত হন।

  • মুক্তিযোদ্ধ স্মৃতিরক্ষা পরিষদ এর সদস্য।

  • মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ এর সদস্য।

  • পরিবার পরিকল্পনা সমিতি বাংলাদেশ এর আজীবন সদস্য।

  • রেডক্রস সোসাইটি বাংলাদেশ এর আজীবন সদস্য।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট-এর আজীবন সদস্য।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন-এর আজীবন সদস্য

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শণ বিভাগ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন-এর আজীবন সদস্য

  • অধ্যাপক সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক

১৫.

ভ্রমণঃ

  • ১৯৭২ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মরহুম তাজউদ্দিন আহাম্মদ এর নেতৃত্বে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে যোগদান।

  • ১৯৭৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব উইমেন এর আঞ্চলিক কনফারেন্সে (সিডনি, অস্ট্রেলিয়া) যোগদান।

  • ১৯৭৪ সালে বুলগেরিয়ার রাজধানী,সোফিয়াতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে, যোগদান।

  • ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিউইয়র্কে  বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যভুক্তির রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগদান।

  • ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ৫২তম Annual DPI/NGO কনফারেন্স নিউইয়র্ক ও ৩১তম I.A.W Triennial Congress NewYork যোগদান।

  • ২০০১ সালে 23rd Triennial Conference A.C.W.W Hamilton Ontario, Canada যোগদান।

  • সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইরাক, সৌদিআরব, ইংল্যান্ড, প্যালেস্টাইন ভ্রমণ করেন।

  • ২০০২ সালে পবিত্র হজ্জ্ব পালন।

১৬.

সম্মাননা লাভঃ

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, নারী প্রগতি সংঘ, নৌ কমান্ডো এসোসিয়েশন ও নারীকন্ঠ থেকে সম্মাণনা লাভ করেন।


Share with :

Facebook Facebook